শৈলকূপায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ  র‌্যালি ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

এম বাদশা মিয়া \ ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শৈলকূপা উপজেলায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায়  উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা সেমিনার  অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করে। শৈলকূপা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজ রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ রোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতা। নিজেদের বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন রোধ করা সম্ভব।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির ট্যাংক ও অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। তিন দিনের বেশি কোনো স্থানে পানি জমে থাকতে না দেয়ার জন্যও সবাইকে আহবান জানানো হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এম ও ডি সি ডা. আরিফুল রহমান বলেন, জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে লালচে দাগসহ ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির সম্পাদক হুমায়ূন বাবর ফিরোজ, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম দিপু, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান হিটু, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, পুলিশ সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সচেতনতামূলক ব্যানার  নিয়ে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা গেলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। তারা এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।