তরুণদের আশার আলো হাইলাইন ব্রাউন জাতের মুরগি

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

কৃষি প্রতিবেদক \ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোল্ট্রি শিল্প তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বেকারত্ব দূর করে আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে বহু তরুণ এখন এ শিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। তুলনামূলক কম পুঁজিতে শুরু করে অল্প সময়ে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় পোল্ট্রি ফার্মিংয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে হাইলাইন ব্রাউন জাতের মুরগি। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং উচ্চ ডিম উৎপাদনের ক্ষমতার কারণে জাতটি খামারিদের, বিশেষ করে তরুণদের কাছে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। হাইলাইন ব্রাউন একটি শংকর প্রজাতির লেয়ার মুরগি, যা বিশেষভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য উন্নত করা হয়েছে। এ জাতের মুরগি বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পে একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হাইলাইন ব্রাউন জাতের মুরগির সহজলভ্যতা, ফার্মিং ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব ইফতেখার ইসলাম। উচ্চ ডিম উৎপাদন ঃ হাইলাইন ব্রাউন মুরগি ১০০ সপ্তাহের উৎপাদন চক্রে ৪৬৮ থেকে ৪৭৩টি ডিম দিতে পারে। এর মানে, গড়ে প্রতি সপ্তাহে একটি মুরগি ৫টিরও বেশি ডিম উৎপাদন করে। তাদের ডিম উৎপাদনের দক্ষতা সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়, যা বাণিজ্যিক ফার্মিংয়ের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা ঃ হাইলাইন ব্রাউনের খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা ১.৯ থেকে ২.১ এর মধ্যে, যা অন্যান্য লেয়ার জাতের তুলনায় উন্নত। এর অর্থ হলো, প্রায় ২ কেজি খাদ্য থেকে এরা ১ কেজি ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। এটি খরচ কমিয়ে লাভ বাড়াতে সহায়ক। জলবায়ু সহনশীলতা ঃ বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র জলবায়ুর সঙ্গে হাইলাইন ব্রাউন সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। এটি তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পালনের জন্য উপযোগী করে তুলেছে। ডিমের গুণগত মান ঃ এ জাতের মুরগির ডিম বাদামি রঙের হয়, যা বাংলাদেশের বাজারে সাদা ডিমের তুলনায় বেশি জনপ্রিয় এবং দামেও ভালো। ডিমের খোসা শক্ত এবং টেকসই, যা পরিবহনের সময় ক্ষতির ঝুঁকি কমায়। ৩৮ সপ্তাহ বয়সে এদের ডিমের অভ্যন্তরীণ গুণমান হিউ ইউনিটে ৯০-এর বেশি হয়, যা উচ্চমানের ডিমের সূচক।