শৈলকুপা প্রতিনিধি \ ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এক রোগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হলে, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের কালক্ষেপনের কারণে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
অসুস্থ রোগীকে কুষ্টিয়া নেয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বকুল হোসেনকে বলা হলে তিনি গাড়িতে জ্বালানি তেল না থাকায় যেতে পারবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে প্রয়োজনীয় তেলের ব্যবস্থা করলেও তিনি কোথাও ভাড়ায় যাবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন। অসুস্থ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে কালক্ষেপণ করায় রোগীর মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বকুল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, শৈলকুপা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফর কুসুম গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় স্বজনরা তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে থাকা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বকুল হোসেনকে রোগী নিয়ে কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বকুল হোসেন গাড়িতে তেল নেই বলে অজুহাত দেখিয়ে রোগীকে কুষ্টিয়া হাসপাতলে নিতে অপরগতা প্রকাশ করেন। অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার বকুল হোসেনের অবহেলা ও কালক্ষেপণের কারণে অসুস্থ আবু জাফর কুসুম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই মারা যান।নিহতের ছেলে লিমন হোসেন বলেন, আমার আব্বা খুব অসুস্থ। তাকে কুষ্টিয়া নেয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বকুল হোসেনকে বলি। এ সময় ড্রাইভার বকুল গাড়িতে জ্বালানি তেল না থাকায় যেতে পারবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে প্রয়োজনীয় তেলের ব্যবস্থা করলেও তিনি কোথাও ভাড়ায় যাবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন। ড্রাইভারের এ রকম কালক্ষেপণের ফলে একপর্যায়ে আমার আব্বার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আব্দুল আল মামুন দায়িত্বে অবহেলার কারণে শৈলকুপা থানা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে ড্রাইভার বকুল হোসেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, হাসপাতালে রোগী মারা যাওয়ার ঘটনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার বকুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
