বিদ্যুৎ খাতে লাগবে আরও ৪১ হাজার কোটি টাকা

দাম বাড়লেও কমছে না ভর্তুকির চাপ

বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার পরও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির বোঝা কমছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ার পরও বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।

বুধবার (৩ জুন) বিইআরসির সম্মেলন কক্ষে নতুন বিদ্যুৎ মূল্যহার ঘোষণার সময় কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। ফলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে। তবে এ আয় সত্ত্বেও বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা থেকে যাচ্ছে।

জালাল আহমেদ জানান, সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর রেট অব রিটার্ন (আরওআর) ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের দাম স্থিতিশীল রাখা কিংবা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া সময়ভিত্তিক বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিও বহাল রাখা হয়েছে। বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে বিদ্যুতের দাম সবচেয়ে বেশি থাকবে, আর ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সুপার অফ-পিক আওয়ারে সবচেয়ে কম থাকবে। কমিশনের আশা, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবহার আরও সুষম ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।