৩ কোটিতে আ‘লীগ এমপিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন হান্নান মাসউদ

রাশেদ খানের বিষ্ফোরক দাবি

বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।

বুধবার (৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ করেন। পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাশেদ খাঁনের দাবি, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হান্নান মাসউদের একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকে নানা রাজনৈতিক ও আর্থিক সমঝোতার আলোচনা হয়েছে।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সমন্বয়কদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত আবদুল গাফফার জিসান হান্নান মাসউদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। জিসান দীর্ঘ সময় হান্নান মাসউদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, অর্থ ও রাজনৈতিক সুবিধার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে হান্নান মাসউদের সঙ্গে জিসানের দূরত্ব তৈরি হয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নোয়াখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতেন হান্নান মাসউদ এবং তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হান্নান মাসউদ বা জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বপক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া জরুরি। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।