তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়াসহ সারাদেশের প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার গ্রাহকরা অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। রিচার্জ করা টাকার একটি বড় অংশ নানা খাতে কেটে নেওয়ায় নির্ধারিত ব্যবহারের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে ব্যালেন্স। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। গ্রাহক আজিবর রহমান বলেন, “সাধারণ মানুষকে হিডেন চার্জের মাধ্যমে শোষণ করা হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের নীলকরদের মতো এরা এখন আমাদের শোষণ করছে।” আরেক গ্রাহক সেলিনা বেগম জানান, “রিচার্জের টাকার তিন ভাগের এক ভাগ মিটার চার্জ হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।” রিক্তা বেগমসহ অনেকেই অভিযোগ করেন যে, গোপন চার্জের কারণে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

গ্রাহকরা আরও জানান, রিচার্জের সময় কোন খাতে কত টাকা কাটা হচ্ছে তা স্পষ্টভাবে জানানো হয় না। এছাড়া সার্ভার সমস্যা, মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন বিল পরিশোধে জটিলতা ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে। ৭৫ বছর বয়সী শওকত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সবাই মিথ্যাবাদী। এই গরমে আমরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি।” কয়েক মাস আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মাসিক চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও কুষ্টিয়া বিদ্যুৎ বিভাগ এখনো কোনো লিখিত নির্দেশনা পায়নি। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, ভ্যাট, মিটার ভাড়া ও বকেয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাটা হয়। তবে ২০২২-২০২৭ সালের প্রকল্পের আওতায় সিঙ্গেল ফেজ আবাসিক গ্রাহকদের মাসে ৪০ টাকা চার্জ দিতে হয়, যা ২০২৭ সালে বন্ধ হবে। জুন-জুলাইয়ে মন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। গ্রাহকদের দাবি, প্রতিটি কর্তনের বিস্তারিত তথ্য প্রদান এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
