দৌলতপুরে এবার দরবারের খাদেমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পদ্মারচর থেকে উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এবার হযরত শাহ রউফ (রা.) দরগাহ শরীফের খাদেম মো. কামাল হোসেনকে (৪০) কে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পদ্মাচর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট থেকে মানিকের চর যাওয়ার পথে পদ্মারচরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার মথুরাপুর দরগাতলা এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধারকালে তার পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কয়েকজন পথচারী পদ্মারচরের বালুর মধ্যে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে চিলমারী ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় কামাল হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া কামাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজ বাড়ির সামনে থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে হাত-পা বেঁধে চরের বালুর মধ্যে ফেলে রাখে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তিনি সনাক্ত করতে পারেননি বলে জানান। এর আগে গত ৯ মে ওই খাদেমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় তার বোন রিতা খাতুন তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা রিতা খাতুনের গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের হার ছিনিয়ে নেয় বলে সেসময় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় কামাল হোসেন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, হযরত শাহ রউফ (রা.) দরগাহ শরীফে প্রতিবছর বৈশাখের ২৯ ও ৩০ তারিখ এবং ১লা জ্যৈষ্ঠ ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। ওরশকে কেন্দ্র করে দরবার এলাকায় মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। মেলার কমিটি গঠন এবং দরগাহর জমিজমা ও সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে খাদেম কামাল হোসেনকে উদ্ধার করেছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।