জমে উঠেছে কুষ্টিয়ার মধুপুর পশুহাট

দাম সহনীয় থাকলেও বিক্রিতে আসেনি পুরোদমে গতি

হাসানুজ্জামান রাজিব:

পবিত্র কোরবানির ঈদকে ঘিরে জমে উঠতে শুরু করেছে মধুপুর পশুর হাট। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও ভেড়া নিয়ে আসছেন খামারিরা। গতকাল শুক্রবার ছিল হাটের দিন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাটজুড়ে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। চারদিকে চলছে পশু কেনাবেচা, দরদাম আর ক্রেতাদের ব্যস্ত পদচারণা। হাটে আসা বিক্রেতাদের ভাষ্য, এবছর পশু পালনে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। গরুর খাবার, খড়, ভুসি, ভিটামিন ও চিকিৎসা ব্যয় আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় পশুর দামেও তার প্রভাব পড়েছে। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে পশু পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ফলে সব মিলিয়ে পশুর দাম কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে বলে জানান তারা। তবে দাম বাড়লেও পশুর সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, ছোট, মাঝারি ও বড়Ñসব ধরনের পশুই এবার পর্যাপ্ত পরিমাণে হাটে উঠেছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের গরু পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশি জাতের গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের মধ্যে। অন্যদিকে হাটে আসা ক্রেতারা বলছেন, তারা সাধ্যের মধ্যে ভালো ও সুস্থ পশু খুঁজছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতাদের চাওয়া দাম তাদের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে। এরপরও পরিবার ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের জন্য পছন্দের পশু কেনার চেষ্টা করছেন তারা। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, ঈদের একেবারে শেষ দিকে দাম কিছুটা কমতে পারে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনাও করছেন অনেকে। হাটের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই। হাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকায় স্বস্তিতে কেনাবেচা করছেন সবাই। এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পশু রাখার স্থান নিয়েও কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে হাট কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তারা বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে হাট ইজারা নিলেও প্রশাসনের কাছ থেকে পর্যাপ্ত উন্নয়ন সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তারা। এবছর অনলাইন পেমেন্ট বা বুথ ব্যবস্থা না থাকলেও ভবিষ্যতে এমন আধুনিক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাট কর্তৃপক্ষ। হাট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি জাকিরুল ইসলাম বলেন, “কোরবানির ঈদ যত কাছে আসবে, ততই হাটে বেচাকেনা বাড়বে। শেষ কয়েক দিনে সবচেয়ে বেশি ক্রেতার চাপ দেখা যাবে বলে আমরা আশা করছি।” সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ার মধুপুর পশুর হাট এখন ঈদকেন্দ্রিক প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে পুরো হাট এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের আগ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং হাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাবে।