নিজ সংবাদ:
বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়ে খুলনা ও বরিশালসহ ওজোপাডিকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গত রোববার সকালে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ করা হয়। ত্রুটি মেরামতে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত তারা পৌঁছাননি। তাদের আসতে আরও দুই-এক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ওজোপাডিকোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১টায় আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮০৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যায় ৬২৯ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং ছিল ১২৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ৬১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৪৯৪ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ১৮৯ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৩৫ মেগাওয়াট।
জোনভিত্তিক হিসাবে খুলনায় ৫৬, কুষ্টিয়ায় ১৩, রাজবাড়ীতে ১২, ঝিনাইদহে ১১, মাগুরায় ৮, চুয়াডাঙ্গায় ৬, ফরিদপুরে ৬, মাদারীপুরে ৬, বরিশালে ৩১ এবং অন্যান্য এলাকায়ও লোডশেডিং ছিল।
এর আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় লোডশেডিং ছিল মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। আবার ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় চাহিদার সমপরিমাণ ৭৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় কোনো লোডশেডিং ছিল না।
রামপাল কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হওয়ায় উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গেছে। অর্থাৎ উৎপাদন কমেছে ৫০০ মেগাওয়াটেরও বেশি।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম জানান, ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা পৌঁছানোর পর বয়লার মেরামতের কাজ করা হবে। দেশীয় প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। শতভাগ উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে।
তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দ্রুত ইউনিটটি মেরামত করে পূর্ণ উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
