গুরুতর অপরাধের অন্যতম কারণ মাদক ও জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাইবার ইউনিট গঠনের উদ্যোগ

বুধবার, সেপ্টে ১৬, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর শুধু গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তির মাধ্যমে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের পেছনে থাকা মূল কারণ চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে। সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে অপরাধের কারণ খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, অনেক গুরুতর অপরাধের সঙ্গে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অপরাধকে একটি উপসর্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব হতে পারে।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধ বাড়ায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণের গুরুত্বও বেড়েছে।

শিগগির আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট এবং ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পর্যায়েও ইউনিট গঠন এবং থানা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তার মতে, আইন দুর্বল হলে গ্রেপ্তারের পর আসামির দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ক্রাইম রিপোর্টারদের কাজ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে। অপরাধসংক্রান্ত রিপোর্ট করতে গিয়ে সাংবাদিক আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি বা সিএসআর প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ক্রাইম রিপোর্টারদের সনদ দেওয়ার বিষয়টি যাচাই করে দেখার কথা জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল।