আম্মারসহ শিবির নেতাদের হামলায় আহত ২ শিক্ষার্থী কারাগারে

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা

মঙ্গলবার, জুলা ২৮, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার শিক্ষার্থীরা হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শাহ মখদুম থানার একটি মামলার তদন্তে তাদের অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রোববার সংস্কৃত বিভাগের ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রক্টর দপ্তরে বৈঠকের সময় আনাস, মাহমুদুলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রক্টরের বাকবিতণ্ডা হয়।

পরদিন প্রক্টর দপ্তরে আরেকটি বৈঠকে আনাসের মোবাইল ফোনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি পাওয়া যায় বলে দাবি করেন রাকসু নেতারা। এরপর সেখানে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে বিকেলে রাকসু ভবনে হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আনাস, মাহমুদুলসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকেও তাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।

আনাস দাবি করেন, তিনি ছাত্রলীগের কর্মী নন এবং কেবল পরিচিতদের সঙ্গে তোলা ছবি থাকার কারণেই তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান হামলার সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, তাদের ওপর ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালিয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম ঘটনাটিকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, পুরো ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।