দেশের শিল্প খাতের জন্য এক গভীর অশনিসংকেত নিয়ে হাজির হয়েছে সরকারের জ্বালানি বিভাগের নতুন সিদ্ধান্ত। সোমবার গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ— গ্যাস উৎপাদন হ্রাস এবং এলএনজি টার্মিনালের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, এই সিদ্ধান্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের পরিবেশের ওপর এক মারাত্মক আঘাত। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ডিমান্ড নোটের অর্থ জমা দিয়ে সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের এই আকস্মিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। জানা যায়, দেশের ৬টি বিতরণ কোম্পানিতে নতুন সংযোগের জন্য প্রায় ১ হাজার ৮৫৭টি আবেদন জমা রয়েছে, যার মধ্যে ৫৫০টি প্রতিষ্ঠান সংযোগ ফি বা ডিমান্ড নোটের টাকা পরিশোধ করে প্রহর গুনছে। এই ৫৫০টি কারখানাতেই ৩০ হাজার কোটি টাকার অধিক বিনিয়োগ করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে অবকাঠামো তৈরি করা হলেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে না পেরে উদ্যোক্তারা আজ দেউলিয়া হওয়ার পথে। অনেক শিল্পমালিক বাধ্য হয়ে এলপিজি বা অতিরিক্ত মূল্যে ডিজেল কিনে কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করছেন বটে, তবে এতে তাদের প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে এবং পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে ইতোমধ্যে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নরসিংদীর বহু কারখানার উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানগুলোর হাজার হাজার শ্রমিকের এতে কর্মসংস্থান ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা মনে করি, এ সংকট উত্তরণে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সব নিয়ম মেনে ডিমান্ড নোটের অর্থ জমা দিয়েছে, তাদের আবেদনকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদের জন্য এলএনজি আমদানির নতুন ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত এবং দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে উৎপাদন বাড়াতে অবিলম্বে নতুন কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। ভুলে গেলে চলবে না, শিল্পকারখানা বাঁচলেই দেশ বাঁচবে এবং অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে। তাই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পথ না বেছে সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের শিল্প খাতকে এই অচলাবস্থা থেকে সরকার রক্ষা করবে-এটাই প্রত্যাশা।