আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) হোয়াইট হাউসের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত মজুতসংক্রান্ত তথ্য গোপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তার দাবি, প্রতিরক্ষা দপ্তরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে নেতিবাচক তথ্য প্রকাশে কর্মকর্তারা অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার চাপ বাড়লেও একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, পেন্টাগনে ‘নীরবতার সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে, যা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে কর্মকর্তারা ভয় পাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন থাড ও প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। প্রতিরক্ষা গবেষকদের ভাষ্য, মজুত কমে গেলে আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সেনাদের ঝুঁকি বাড়বে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের পর টমাহক ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় এসব অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পেন্টাগন। সংস্থাটির মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, হতাহতের তথ্য বা অস্ত্রের মজুত গোপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একইভাবে হোয়াইট হাউসও দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।
