একটা ভালো খবর আছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ৬০০ থেকে ৬৫০ কোটি ডলারের একটি নতুন ঋণচুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। যা কথা হয়েছে, তাতে ডিসেম্বরের মধ্যেই হবে এ চুক্তি এবং সে অনুসারে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই পাওয়া যেতে পারে প্রথম কিস্তির টাকা। তবে আইএমএফের ঋণ নেওয়া প্রসঙ্গে কিছু কথা যুক্ত থাকছে। সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছে এ সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল। তারা রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতের দ্রুত সংস্কার এবং আরও পাঁচ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। ঢাকা ত্যাগের আগে তারা সরকারের অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে গেছেন। তারা বলেছেন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে হবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ করতে হবে শক্তিশালী, বাড়াতে হবে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি এবং ব্যাংক খাতের দ্রুত সংস্কার তো আছেই। এসব শর্তের বিপরীতে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট। জনস্বার্থ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে কঠিন শর্ত পালনের বদলে ধাপে ধাপে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে কয়েকটি কঠোর শর্ত বাস্তবায়নে সময় চেয়ে আইএমএফকে নমনীয়তা দেখাতে বলেছে সরকার। সরকারের যুক্তিও সুন্দর। নির্বাচিত সরকার হিসাবে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনা করতে হবে। গত আওয়ামী রেজিমে অর্থনীতির যে হাল করা হয়েছে, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া এত সহজ নয়। বিশেষত ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্যাংক রীতিমতো লুট করা হয়েছে। কিছু অলিগার্কের লাগামহীন স্বার্থ ব্যাংক খাতের বারোটা বাজিয়েছে। ফলে অর্থনীতিকে নতুন করে চাঙা করতে হলে, প্রথমত দরকার সময়। বাস্তবতা মেনে ক্রমান্বয়ে অর্থনীতিকে জোরদার করতে হবে। আইএমএফ সরকারের এ যুক্তিকে গ্রাহ্য করবে বলেই আমাদের ধারণা। আমরা আশা করব, অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় বিষয়টি আলোচিত হবে। এরপর পূর্বকথা অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। সরকারের প্রতি আবেদন থাকবে, অর্থনীতির ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন অর্থনীতির ফিনিক্স পাখি ওড়াতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ঋণের টাকার যথাযথ ব্যবহার এবং সরকারের দূরদর্শিতা মিলে আমরা অচিরেই একটি ভালো অর্থনীতি দেখতে পাব, এটাই প্রত্যাশা।