আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অগ্রগতির দাবি করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান। দুই দেশ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রূপরেখায় সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার বৈঠকের পর এই সমঝোতা হলেও সামনে রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা:
আলোচনার অগ্রগতি তদারক করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিয়মিত দুই দেশের আলোচকদের কাছ থেকে প্রতিবেদন নেবে এবং পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লেবাননে সংঘাত নিরসন উদ্যোগ:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছে। সেখানে সামরিক উত্তেজনা কমাতে একটি ‘সংঘাত নিরসন সেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো লেবাননে চলমান সংঘাত নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনৈতিক সুবিধা:
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনায় তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বিষয় উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এসব বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেয়নি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বাস্তবায়ন বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি:
আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে দূরে থাকুক। এ জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় ইরানে কাজের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, আন্তর্জাতিক নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলোতে এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। আগামী ৬০ দিনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নতুন পথে যাবে কি না।
ইসরায়েলের মন খারাপ:
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তির পর ইসরাইলে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। ইসরাইলি নেতারা চুক্তিকে “নিরাপত্তার হুমকি” ও নিজেদের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। লেবাননে হামলা বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন–ইরানি ডিল ইসরাইলের সামরিক কার্যকলাপে বাধা তৈরি করবে বলে তারা আশঙ্কা করছে। তবে ইসরাইল এই চুক্তিকে নিজেদের জন্য দ্বাধিবদ্ধ নয় বলেও জানিয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
