আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত আপাতত থেমেছে। হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হচ্ছে, পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে এবং উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু এই সমঝোতার পর সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হলো— যুদ্ধটা তাহলে কেন হয়েছিল?
কয়েক মাসের সংঘাতে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি চাপে পড়েছে। অথচ যুদ্ধ শেষে যে অবস্থানে এসে দুই পক্ষ দাঁড়িয়েছে, অনেক দিক থেকেই তা যুদ্ধ শুরুর আগের পরিস্থিতির কাছাকাছি।
সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে, ইরানের ওপর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা হয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে। অর্থাৎ যে বিষয়গুলো নিয়ে যুদ্ধের আগে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, শেষ পর্যন্ত সেখানেই ফিরে এসেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একটি বড় হিসাব ছিল সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং কঠিন পরিস্থিতিতেও ইরানের ক্ষমতাকাঠামো টিকে গেছে এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ব্যবহার করে তেহরান আলোচনায় নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সংঘাত শেষে লেবানন, গাজা ও পারমাণবিক ইস্যুগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ফলে সমালোচকদের প্রশ্ন— এত প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার পর যদি শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলেই ফিরতে হয়, তাহলে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা কোথায় ছিল?
তবে সমঝোতাটি এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী ৬০ দিনের আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। আর ব্যর্থ হলে আবারও উত্তেজনা ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে। কিন্তু আপাতত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত প্রশ্ন একটাই— যুদ্ধটা কেন হয়েছিল, এবং এর প্রকৃত অর্জন কী?
