সুপার এল নিনোর প্রভাবে কুষ্টিয়ায় উৎপাদন চ্যালেঞ্জের শঙ্কা

তাপমাত্রা ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

 

তরিকুল ইসলাম \ সুপার এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে দেশজুড়ে তাপদাহ, খরা ও কৃষি সংকটের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের শেষ দিকে এর প্রভাব বাংলাদেশে আরও স্পষ্ট হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. হাসিবুশ শাহীদ জানান, এল নিনোর প্রভাব আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর থেকে দেশে অনুভূত হতে পারে। তিনি বলেন, এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় এখন থেকেই পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা, খাদ্য সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গরম ও অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে, বোরিং মেশিনেও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আমন মৌসুমের ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গরমে ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে এবং চারা রোপণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, প্রকৃতির বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ ফলনের জন্য অশনি সংকেত বহন করছে। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। খামারবাড়ি, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক টিপু সুলতান স্বপন বলেন, খরাপ্রবণ পরিস্থিতিতে উপযোগী ফসল ও জাত নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ইতোমধ্যে সতর্ক করে জানিয়েছে, বছরের শেষ দিকে এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।