সীমান্তে যৌথ টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে একমত বাংলাদেশ-ভারত

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কথিত ‘পুশ-ইন’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চললেও সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথ সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে একমত হয়েছে উভয় দেশ।

শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) শীর্ষ কর্মকর্তাদের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বৈঠককে ‘আন্তরিক, ইতিবাচক ও দূরদর্শী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত অবৈধ ও জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার, মানব পাচার, সীমান্তে মৃত্যু, চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সীমান্ত দিয়ে লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে একাধিক চিঠিও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, তাদের দেশে অবস্থানরত হাজারো সন্দেহভাজন বাংলাদেশির জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া যেকোনো ধরনের পুশ-ইনকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত টহল আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় বিজিবি-বিএসএফের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।