দৌলতপুরের মানিকদিয়াড়ে ভুতুড়ে স্কুল; শিক্ষক আছেন, শিক্ষার্থী নেই

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

রাকিব আলী \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা চত্বরের পাশেই মানিকদিয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। খাতায়-কলমে ৮ জন শিক্ষক ও ২৩০ জন শিক্ষার্থীর কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র একেবারে ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাত্র চারজন শিক্ষক উপস্থিত, কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী নেই। বন্ধ কক্ষ, তালাবদ্ধ ক্লাসরুম আর বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। খালিদ হাসান আরজু বলেন, “স্কুলটি এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ২০০ এর বেশি ছাত্রের কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে কোনো শ্রেণিতে কোনো ছাত্র দেখা যায়নি। যে দু-একজন আছে তারা শিক্ষকদেরই সন্তান। প্রধান শিক্ষক অফিসে বসে আড্ডা দেন। কারও কোনো দায়বদ্ধতা নেই।” মতিউর রহমান বলেন, “এটা আর স্কুল নেই, বারামখানা হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” আতিক হাসান আদর জানান, “শিক্ষকদের গাফিলতিতে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।” শিক্ষকদের দাবি, উপবৃত্তির ঝামেলা, টিফিনের পর শিক্ষার্থীদের না আসা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহমদ বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২১৭টি বিদ্যালয় দেখাশোনার জন্য মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন, যা খুবই অপ্রতুল। আমি শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেব।” দৌলতপুরের ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক অবহেলায় শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী। অভিভাবকরা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।