কুষ্টিয়ায় মাদক বিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

 

নিজ সংবাদ \ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে “মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ-২০২৬। যুব সমাজকে মাদককের ভয়াবহতা থেকে ফিরিয়ে আনা ও খেলাধুলায় মনোনিবেশ করার লক্ষ্যে গতকার বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে, কুষ্টিয়া কুমারখালি উপজেলাধীন বাঁধবাজার ফুটবল মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসলাম হোসেন। খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা গনঅধিকার পরিষদ (জিওপি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক প্রমূখ। উক্ত খেলায় বাঁধবাজার যুব স্পোটিং ক্লাব বনাম কুষ্টিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাব অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগীতা পূর্ণ এ খেলায় উভয়দল তাদের সেরা নৈপণ্য প্রদর্শন করে। বাঁধবাজার যুব স্পোটিং ক্লাব ০৩ গোল দিয়ে পরাজিত ও কুষ্টিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাব ৫ গোল দিয়ে বিজয়ী হয়। এ খেলায় স্কুল কলেজের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিজয়ী ও পরাজিত দলের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এসময় উপ পরিচালক আসলাম হোসেন বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশের জন্যও মারাত্মক হুমকি। মাদকের কারণে তরুণরা তাদের মেধা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ হারিয়ে ফেলে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং যুবসমাজকে সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত মনোভাব গড়ে তোলে। মাঠে সময় কাটালে তারা মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকে। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি উপস্থিত সকলকে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে যুবসমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া আব্দুল খালেক বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।