সুরতহাল কর্মকর্তার হৃদয়বিদারক সাক্ষ্য

রামিসা হত্যা মামলা

বুধবার, জুন ৩, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে মঙ্গলবার (২ জুন) আদালতজুড়ে নেমে আসে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কের আবহ। একের পর এক সাক্ষীর বর্ণনায় উঠে আসে হত্যাকাণ্ডের নির্মম ও মর্মান্তিক চিত্র। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্যে আদালতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

দিনের শুরুতে একাধিক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকবাল হোসেন আদালতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহের সুরতহাল করা হয় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। তার বক্তব্যে উঠে আসে কীভাবে অপরাধ সংঘটনের পর আলামত নষ্ট ও মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্ণনা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. নসরত জাবীন আদালতে সাক্ষ্য দেন। তিনি মরদেহ পরীক্ষার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে জানান, শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার সাক্ষ্য আদালতের পরিবেশকে আরও ভারী করে তোলে।

এদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদও সাক্ষ্য দিয়ে জানান, মামলার এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য এসআই রাশেদুল ও তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই অহিদুজ্জামানও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তারা জানান, ঘটনার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোন ও ফরেনসিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আলোচিত এ মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।