নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিশ্চিন্তবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন সরকারি লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও নিজ অনুমোদিত এলাকায় সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারার অভিযোগ তুলেছেন। অবৈধ সেচ ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে তিনি বছরে প্রায় তিন লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেছেন। গতকাল গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিশ্চিন্তবাড়ীয়ায় খুবই দুশ্চিন্তায় ভূগছেন ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন। মনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে গভীর নলকূপের লাইসেন্স নেন তিনি। এর আগে ২০০৯ সালে এলাকার কিছু জমি ১০ বছরের জন্য লিজ নেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বিঘা জমিতে সেচ দিয়ে আসছেন। তবে লাইসেন্স অনুযায়ী সেচ পাম্পের চারপাশে ২৫০ ফুট এলাকায় এককভাবে সেচ দেওয়ার অধিকার থাকলেও এখন সেখানে বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, প্রতিবেশী নাসির শেখ আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে অবৈধভাবে সাবমার্সিবল পাম্পের মাধ্যমে একই এলাকায় সেচ দিচ্ছেন। এতে মনোয়ার হোসেনের প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে উৎপাদিত পেঁয়াজ, ধান ও পাটের আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। অভিযুক্ত নাসির শেখ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মূলত নিজের ৬-৭ বিঘা জমিতে পানি দেন। কেউ অনুরোধ করলে অন্যদের জমিতেও পানি দেন। স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও পরে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করেন বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয় কৃষকদের অনেকে জানান, এতদিন তারা কার লাইসেন্স আছে তা জানতেন না। তবে এখন জানতে পেরেছেন মনোয়ার হোসেনের বৈধ অনুমোদন রয়েছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার কোনো বিধান নেই। খোকসা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান জানিয়েছেন, অভিযোগটি তার জানা ছিল না। তবে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।