স্কুলের পাশে অস্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান

বৃহস্পতিবার, অক্টো ২৯, ২০২৬

 

 

সন্তানের মুখে নিরাপদ খাবার তুলে দিতে মা-বাবার কত না চিন্তা। সব মা-বাবাই চান তাঁর ‘সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। অথচ সেই সন্তান যেখানে পড়ালেখা করছে, সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে গড়ে ওঠা বেশির ভাগ খাবারের দোকানই অস্বাস্থ্যকর। সেখান থেকেই প্রতিনিয়ত খাবার কিনে খাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। এটি শুধু বাংলাদেশের চিত্র নয়, বরং বিশ্বের বড় বড় শহরের অবস্থাও এমনই। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগের খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, বিশ্বের বড় শহরগুলোতে প্রতি ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯টিই এমন জায়গায় অবস্থিত, যেখানে শিশুরা সহজেই অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারে। এসব জায়গায় রয়েছে স্ন্যাকসের দোকান, সুপারমার্কেট ও মিষ্টি বিক্রির বিশেষায়িত দোকান। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হাতখরচের টাকা দিয়ে খাবার বা পানীয় কেনার সময় শিশুরা প্রায় সব ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেয়। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা যা কেনাকাটা করে, তার তিন-চতুর্থাংশের বা ৭৫ শতাংশের বেশিই অস্বাস্থ্যকর খাবার। স্কুলের বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা সসেজ রোল, ক্যান্ডি, চিপস ও কোমল পানীয়র মতো খাবারগুলো খুব সহজেই হাতের কাছে পেয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো নাজুক। আমাদের এখানে স্কুলের আশপাশে যেসব খাবার পাওয়া যায়, সেগুলোর বেশির ভাগই অস্বাস্থ্যকর। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা খাবারের দোকানের জনপ্রিয় খাবারগুলোতে উচ্চমাত্রায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। ঝালমুড়ি, চটপটি, আখের রস, মিক্সড সালাদ এবং স্যান্ডউইচের মতো খাবারে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগের জীবাণু পাওয়া গেছে। তবে হতাশার বিষয় হলো, অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে তেমন কোনো সচেতন উদ্যোগ নেই। অনেকেই এসব দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এমনকি অনেক অসচেতন মা-বাবাও এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার সন্তানের মুখে তুলে দিচ্ছেন। আমাদের বাস্তবতা হলো, কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন ছাড়াই যত্রতত্র খাবারের দোকান গড়ে উঠছে। বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামেও একই চিত্র। এসব খাবারের দোকানের যে মান বজায় রাখা দরকার, সেই বিষয়টিই আমলে নেওয়া হয় না। শহরে মাঝেমধ্যে অভিযানে কিছু হোটেল-রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু সেই হোটেল-রেস্তোরাঁ পরবর্তী সময়ে একই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করে। আমরা মনে করি, নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো কঠোর হওয়া দরকার। খাবারের দোকানগুলো যেন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখে, তা নজরদারির আওতায় আনা দরকার। শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে খাবারের দোকানগুলোর প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিশুরা যেন হাত বাড়ালেও অস্বাস্থ্যকর খাবার না পায়, তা দেখতে হবে। একই সঙ্গে জনসাধারণেরও সচেতন ভূমিকা অপরিহার্য।