নিজ সংবাদ \ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন—আসুন আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে আরও সবুজ, আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ বিতরণী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে সবুজায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই দিনে কুষ্টিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শহরের হাউজিং এস্টেট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই লাখ বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ তৌহিদ বিন-হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিকদার মো. হাসান ইমামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বলেন, “আজকে আমাদের জন্য অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় দিন। আমরা বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অনেকগুলো গাছ রোপণ করলাম।” কমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর জন্য। সেটা তোমার স্কুলে হোক, বাসার আশেপাশে হোক অথবা যেখানেই সুযোগ পাও।” তিনি আরও বলেন, গাছ বড় হলে স্কুলে খেলতে খেলতে ক্লান্ত শিক্ষার্থীরা তার ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারবে। বাসায় লাগালে সুন্দর বাতাস আসবে, ঘর ঠান্ডা থাকবে এবং পরিবেশ সুস্থ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসো আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি, আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে। শিক্ষাঙ্গন ও বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখি। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করব না।” অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, “একটি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, এটি আমাদের জীবন রক্ষা করে। গাছ অক্সিজেন দেয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, বৃষ্টিপাত বাড়ায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলে।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আজ তোমাদের হাতে যে চারা তুলে দেওয়া হচ্ছে, এটি একটি সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতীক। এর যত্ন নাও, বড় করো এবং অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করো।” অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন। এই উদ্যোগ দেশজুড়ে সবুজায়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। শিশুদের হাত ধরে বাংলাদেশ যেন আরও সবুজ, আরও সুন্দর হয়ে ওঠে—এমন প্রত্যাশাই প্রতিফলিত হয়েছে এই কর্মসূচিতে।
