উৎস, সরবরাহ চ্যানেল ও আর্থিক যোগানদাতাদের থামাতে হবে: তৌহিদ বিন-হাসান

কুষ্টিয়ায় মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

নিজ সংবাদ \ মাদক সমস্যার বিদ্যমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ ও উদ্ভাবনী সমাধান-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্ব করেন সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। বক্তারা উদ্বেগের সঙ্গে জানান, জেলায় প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক সোহরাব উদ্দিন বলেন, ুশহরের অনেক স্কুলের আশপাশে বখাটেদের মাদকের আড্ডাখানা গড়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের এই ভয়ংকর ছায়া থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে”। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী মহল এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়া জড়িত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অংশের সমন্বয়ে এই র‌্যাকেট পরিচালিত হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন”। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “মাদকাসক্তদের অধিকাংশই বেকার যুবক। বেকারত্ব দূর করে শিল্পায়নের মাধ্যমে মাদকের প্রভাব কমানো সম্ভব”। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন- “মাদকের উৎস, ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল এবং অর্থের যোগানদাতাদের চিহ্নিত করে নির্মূল করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি এই তিনটি ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে ৭০-৭৫ শতাংশ মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সমাজের প্রতিটি স্তরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে”। আলোচনা শেষে স্কুল পর্যায়ের রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যৌথ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়া হয়।