তবুও উন্নয়নের বাইরে আলমডাঙ্গার ৯ নম্বর ওয়ার্ড

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

 

শাহ আলম মন্টু \ প্রথম শ্রেণির আলমডাঙ্গা পৌরসভা, তবুও উন্নয়নের বাইরে বন্ডবিল ৯ নম্বর ওয়ার্ড। চার দশকের অপেক্ষা, ৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রশ্ন— “আমরা কি সত্যিই পৌরসভার নাগরিক” ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আলমডাঙ্গা পৌরসভা। দীর্ঘ পথচলায় পৌরসভাটি উন্নীত হয়েছে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায়। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ড্রেন, সড়কবাতি, বাজার উন্নয়নসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও সেই উন্নয়নের ছোঁয়া এখনো পুরোপুরি পৌঁছেনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বন্ডবিল এলাকায়। পৌরসভার সূত্রমতে, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মোট জনসংখ্যা ৫ হাজার ৪৮১ জন। রয়েছে ৭৩৭টি হোল্ডিং এবং প্রায় ২ হাজার ৩০০ ভোটার। প্রতিবছর এই ওয়ার্ড থেকে প্রায় ৫৬ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়। অথচ স্থানীয়দের অভিযোগ, কর ও হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করলেও নাগরিক সুবিধা থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকায় নেই পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। নেই পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকায় এখনও মানুষ কাঁচা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও তাদের জীবনযাত্রার মান অনেকাংশে ইউনিয়ন পর্যায়ের অনুন্নত এলাকার মতোই রয়ে গেছে। ওয়ার্ডের ভেতরের প্রধান চলাচল সড়কটিও বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকার বাসিন্দারা জানান, সড়কবাতির অবস্থাও অত্যন্ত হতাশাজনক। কিছু স্থানে খুঁটি ও বাতি স্থাপন করা হলেও অনেকগুলোতে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বা আলোর ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে রাতের বেলায় চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষায়, “পৌরসভা হওয়ার পর থেকে অনেক নির্বাচন দেখেছি। প্রতিবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে বন্ডবিলে বড় ধরনের উন্নয়ন চোখে পড়েনি।” তরুণদের অভিযোগ আরও স্পষ্ট। তাদের মতে, আলমডাঙ্গা পৌরসভার অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় ৯ নম্বর ওয়ার্ড উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তারা মনে করেন, নাগরিক সুবিধার দিক থেকে এই ওয়ার্ড এখনো পৌর এলাকার পরিবর্তে একটি অবহেলিত ইউনিয়নের চিত্র বহন করছে। একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যদি ইউনিয়নের অধীনে থাকতাম তাহলে কর কম দিতে হতো। কিন্তু প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক হয়েও আমরা পৌরসভার সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না।” স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের জন্য কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ, ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং কার্যকর সড়কবাতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ২০০৪ সালে আলমডাঙ্গা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হওয়ার পর দুই দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও বন্ডবিল এলাকার মানুষের প্রত্যাশিত নাগরিক উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটাররা এবার প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজকে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। তাদের মতে, রাস্তা, ড্রেনেজ, সড়কবাতি, নিরাপদ পানি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাই হবে আগামী নির্বাচনের প্রধান ইস্যু। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার পরিচয় পাওয়ার বহু বছর পরও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষের মনে আজও একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— “আমরা কর দিচ্ছি পৌরসভাকে, কিন্তু পৌরসভার নাগরিক সুবিধা কি সমানভাবে পাচ্ছি?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বন্ডবিলের প্রায় আড়াই হাজার ভোটার এবং ৫ হাজারের বেশি সাধারণ নাগরিক।