সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে: সোহরাব উদ্দিন

কুষ্টিয়ায় জাঁকজমকপূর্ণ রথযাত্রা: ভক্তি, সম্প্রীতি ও উৎসবের মিলনমেলা

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

শফিকুর রহমান \ কুষ্টিয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোপীনাথ জিউর মন্দির কমিটির সভাপতি বিজন কুমার কর্মকার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, “আমাদের দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্য। সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহাবস্থানের অনন্য প্রতীক।” উদ্বোধনের পর বিকেল পাঁচটায় গোপীনাথ জিউর মন্দির থেকে রথ বের হয়। শত শত ভক্ত-পুণ্যার্থী রশি টেনে রথটি বড়বাজার মন্দিরের উদ্দেশে নিয়ে যান। রথের রশি ধরে টানা, স্পর্শ করে প্রার্থনা, শঙ্খধ্বনি, কীর্তন ও ভক্তিমূলক সংগীতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণসহ সব বয়সের মানুষ অংশ নিয়ে এক অপূর্ব মিলনমেলার সৃষ্টি করেন। একই দিনে শহরের বজলার মোড়ের ইসকন মন্দির থেকেও আরেকটি রথযাত্রা বের হয়। ভক্তরা রশি টেনে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রথটি পুনরায় ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন। হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র, কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণে এখানেও তৈরি হয় ভক্তিময় আবহ। আয়োজকরা জানান, জগন্নাথদেবের কাছে পরিবার, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, কুষ্টিয়া শহর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ। নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারা তাঁদের জন্য বড় আনন্দের। ইসকন মন্দিরের সভাপতি বঞ্চব আনন্দ দাস বলেন, “আমরা এই রথের মাধ্যমে ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেনো সকলের জীবনে সুখ বয়ে আনেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আমরা চাই হিন্দু- মুসলিম- বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান সকলে মিলে সুখে শান্তিতে যেনো বসবাস করতে পারি। আজ এই আনন্দের দিনে এটাই আমাদের প্রত্যাশা”। রথ উৎসবকে ঘিরে ধর্মীয় কর্মসূচি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এক সপ্তাহ পর উল্টো রথের দিন বড়বাজার মন্দির থেকে রথ টেনে আবার গোপীনাথ জিউর মন্দিরে নিয়ে আসা হবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব। রথযাত্রা উৎসব কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ভক্তরা সবার শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।