সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন নিয়ে আলোচনা স্থগিত, সংসদে জামায়াত এমপির ক্ষোভ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

ঢাকা অফিস \ ভারত সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুশ-ইন তৎপরতা নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা স্থগিত করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (ঢাকা-১৪) মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ সমালোচনা করেন। পরে বাজেট অধিবেশনের ব্যস্ততা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বিষয়টি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দ্রুতই এ বিষয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবৈধ পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে আমি কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী একটি সাধারণ প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছিলাম। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছিল যে, রোববার বিষয়টি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে। এমনকি গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর রোববারের মূল কার্যসূচিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গতকাল সকালে দেওয়া নতুন কার্যসূচি থেকে রহস্যজনকভাবে বিষয়টি বাদ দিয়ে জানানো হয়েছে অনিবার্য কারণবশত প্রস্তাবটি স্থগিত। জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থগিত করতে হলো? তিনি দ্রুত আলোচনার সুনির্দিষ্ট তারিখ দাবি করেন। জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, নোটিশটি বাতিল করা হয়নি, এটি আমার সামনেই আছে। বর্তমানে বাজেট অধিবেশন চলায় আমাদের সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই কারণে এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র। সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুটিকে মৌলিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার আশ্বাস দেন, খুব শিগগিরই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এই নোটিশের ওপর সংসদে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। এর আগে বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।