কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াই সেতুর ওপর থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন এক কলেজ ছাত্রী। গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধা সাড়ে ৭ টার দিকে শহরতলীর যদুবয়রা সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। সেতুর ওপর পড়ে থাকা কলেজ ব্যাগের পরিচয়পত্র অনুযায়ী নিখোঁজ ছাত্রীর নাম শর্মিলা খাতুন (২৩)। তিনি উপজেলা জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের আশিকুর রহমানের স্ত্রী। এছাড়াও তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। রাত ৮টার দিকে যদুবয়রা গড়াই সেতুর ওপর গিয়ে দেখা গেছে, স্বজনরা আহজারি করছেন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন। উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী ইসমাইল হোসেন বলেন, সন্ধ্যায় ঘুরতে এসে দেখি একটি মেয়ে সেতুর ওপর ব্যাগ রেখে ঘুরাঘুরি করছেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি নদীতে ঝাঁপ মারেন। পরে ব্যাগে থাকা পরিচয়পত্রের নাম্বারে কল দিলে তাঁর শ্বাশুড়ি ধরলে তাকে বিস্তারিত জানায় এবং ৯৯৯ কল দিই। এরপর কুমারখালী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম এসে কাজ শুরু করেন। এদিকে শেষ খবরে জানাযায় নিখোঁজ ছাত্রী নদী থেকে সাঁতরিয়ে রাত ১১টার দিকে কুলে উঠেন। পরে সেখান থেকে পায়ে হেটে ৫ কিলোমিটার দুরে বাড়ীতে যায়। অসুস্থ্য হয়ে পরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ঘটনার পরপর নিখোঁজ গৃহবধুর স্বামী আশিকুর রহমান বলেন, ‘সকালে আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এরপর রাগ করে সে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে পরীক্ষা দিতে যাই। কিন্তু পরে আর বাড়ি না ফিরলে হাসপাতাল, পার্ক ও বিভিন্ন বাজারে খোঁজাখুজি করেও তাকে পাইনি। এরপর রাতে একজন ফোন দিয়ে জানাই ব্রীজের উপর শর্মিলা নদীতে ঝাঁফ দিচ্ছিল, কিন্তু তাকে থামানো হয়ছে। খবর পেয়ে এসে শুনি শর্মিলা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে। কিন্তু কেন ঝাঁপ দিল তা জানিনা।’ শর্মিলার মা আর্জিনা খাতুন আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘আল্লাহ তুমি আর কত পরীক্ষা করবা আমায়। ‘পরে তিনি বলেন- প্রেম করে ওরা রমজানের ঈদে বিয়ে করেছিল। কোনো সমস্যা ছিলোনা। আজ হঠাৎ খবর শুনে ব্রিজে এসে শুনি নদীতে ঝাঁপ মারেছে।’ কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে এসে ভিকটিমের নাম পরিচয় জানতে পেরেছি। নদীতে স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। খুলনার ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আসলে আগামীকাল (বুধবার) উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে মেয়েটি নদীতে ঝাঁপ দিয়ছেন বলে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ৯৯৯ কলের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করছেন নদীতে।
সাঁতরিয়ে তীরে উঠে ফিরলেন বাড়ী, হাসপাতালে ভর্তি
কুমারখালীর গড়াই সেতুর ওপর থেকে কলেজ ছাত্রীর নদীতে ঝাঁপ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬