তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ-হরিপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রান্তিক জনগণ চরম স্বাস্থ্যসেবা সংকটে পড়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৬ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ২০২১ সালে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর গত প্রায় ১০ বছরে নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা, ওষুধ, গর্ভবতী মায়েদের সেবা ও শিশু টিকাদানসহ মৌলিক স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম শিপন বলেন, “হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হোক। সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, এখানে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক।” আরেক বাসিন্দা মকলেছুর রহমান জানান, একজন এমবিবিএস ডাক্তার ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু থাকলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে পারতেন। তাসলিমা খাতুন, শাহাদাত হোসেন ও কলিম উদ্দিন সরদারসহ অনেকেই জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় অনেক রোগীকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয়। তারা দোতলা আধুনিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মহসিন আলী বলেন, “বাজারের উপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি না থাকায় আমরা পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সীমিত সেবা দিচ্ছি। এতে রোগীরা খুব একটা আসেন না।” কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন শেখ মোঃ কামাল উদ্দিন ও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিষয়টি তাদের জানা আছে। তারা জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান করবে।
