পুষ্টি ও উপস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন, তবে খাবারের মান উন্নয়নের দাবি শিক্ষকদের

কুমারখালীতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

 

নিজ সংবাদ \ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার কমানো এবং ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর ন্যূনতম পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওসাকার তত্ত্বাবধানে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ১৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। ছেঁউড়িয়া জয়নাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোজাম্মেল হক গতকাল রবিবার আন্দোলনের বাজারকে জানান, “আগের তুলনায় খাবারের পরিমাণ বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন অনেক আনন্দিত। তবে খাবারের মান আরও উন্নত করা দরকার। শুধু পাউরুটি নয়, বৈচিত্র্যময় খাবার যেমন দুধ-ডিম, কলা, বিস্কিট ইত্যাদি দিলে আরও ভালো হয়।” শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, খাবার মোটামুটি ভালো এবং পুষ্টিকর হলেও প্রতিদিন একই ধরনের খাবার না দিয়ে বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রত্যাশা তাদের। রিহান, নাজাত ও এশার মতো শিশুরা বলেছে, “স্কুলে এসে নিয়মিত খাবার পেয়ে আমরা খুশি। এতে পুষ্টির অভাব পূরণ হচ্ছে।” শিক্ষকদের মতে, এই কর্মসূচির কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ক্লাসে মনোযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। লালন লোক-সাহিত্য কেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিয়ার রহমান ও আশফাক-ই আজম আন্দোলনের বাজারকে বলেন, “পুষ্টির চাহিদা পূরণে এই উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শিশুরা উপকৃত হবে।” তবে খাবারের মান যাচাই, পরিমাণ ও বণ্টন নিয়ে স্বচ্ছতা ও তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি সংবাদে খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কার্যকর তদারকি ও মানসম্মত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করে একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। তবে খাবারের মান, পরিমাণ ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত না করলে লক্ষ্য পূরণে চ্যালেঞ্জ থেকেই যাবে।