পোড়াদহে কৃষকদের হাতে সহজ শর্তের ঋণ

গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

আফসানা ইসলাম পুষ্প \ বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহে আয়োজন করা হয়েছে প্রকাশ্যে কৃষিঋণ বিতরণ কর্মসূচি। গতকাল রবিবার আইএফআইসি ব্যাংকের পোড়াদহ শাখায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রকৃত ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষক ও বর্গাচাষিদের মধ্যে সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়। কৃষকদের সরাসরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে কৃষকদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেওয়া হয় এবং ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণে তাদের উৎসাহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী অফিসের যুগ্ম পরিচালক আজিজ মো. ফজলুল করিম। রিসোর্সপার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী অফিসের সহকারী পরিচালক মো. শামিম হোসেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান মো. ইফতেখার আহমেদ, রাজশাহী শাখার ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম, সেতু কুষ্টিয়ার নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল কাদের এবং কুষ্টিয়া পল্লী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএফআইসি ব্যাংক পোড়াদহ শাখার ব্যবস্থাপক লিয়াকত আলী। প্রধান অতিথি আজিজ মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের অর্থনীতির বড় একটি অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকদের আর্থিকভাবে সক্ষম করে তুলতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে কৃষকদের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মো. শামিম হোসেন বলেন, কৃষকদের যেন ঋণ নিতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে ৮ শতাংশ সুদে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করা হবে। আইএফআইসি ব্যাংক পোড়াদহ শাখার ব্যবস্থাপক লিয়াকত আলী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করেও তাদের শাখা থেকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭৭টি হিসাবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যাংকটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে এনজিও সংস্থা কাপস্ কুষ্টিয়ার নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ নীতিমালা কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রকৃত কৃষকদের কাছে ঋণের সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ব্যাংকে কৃষি সম্পর্কিত আলাদা বিভাগ চালু করা হলে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে। কৃষকদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে মাত্র ১০ টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের মতে, সহজ শর্তে কৃষিঋণ বিতরণের এই উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ঋণ পাওয়া কৃষকদের একজন রতন হোসেন জানান, তিনি ৫ লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন। এই অর্থ দিয়ে নিজের খামারের জন্য গরু কিনবেন। সহজ শর্তে এই ঋণ না পেলে খামারে নতুন বিনিয়োগ করা সম্ভব হতো না বলেও জানান তিনি। কৃষকদের হাতে সরাসরি ঋণ পৌঁছে দেওয়ার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।