শফিকুর রহমান \ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে একটি মসজিদের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পশুর হাট চালিয়ে আসছেন একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো সরকারি অনুমোদন বা ইজারা ছাড়াই প্রতি রবিবার বসছে এই হাট। প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ টাকার গরু-ছাগল কেনাবেচা হলেও সরকারের কোষাগারে পড়ছে না এক টাকাও। উল্টো হাট থেকে আদায়কৃত অর্থের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ব্যক্তিগত পকেটে। স্থানীয়রা জানান, কুর্শা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন হোসেন, স্কুল শিক্ষক আরমান আলী, ইউপি সদস্য চানিক আলী মালিথাসহ কয়েকজন ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাটটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতি হাটে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খাজনা আদায় করা হয় মসজিদের নামে।

কিন্তু সেই টাকা মসজিদের তহবিল বা সরকারি খাতে জমা না হয়ে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গণি বলেন, “আমরা এলাকার স্বার্থে হাটটি চালু করেছিলাম। কিন্তু এখন দুষ্কৃতকারীরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। কিছু অর্থ মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করা হয় এবং স্থানীয় বেকার যুবকদের দেওয়া হয়, তবে বেশিরভাগ টাকাই চলে যায় নেতৃত্বের পকেটে।” অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক আরমান আলী অবশ্য দাবি করেছেন, “হাটের অর্থের একটি অংশ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হয়। বাকি টাকা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক হিসেবে বিতরণ করা হয়।” তবে স্থানীয়দের ক্ষোভ অন্য রকম। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ আমলে শুরু হওয়া এই অবৈধ হাট সরকার বদলের পরও অনিয়মের সংস্কৃতি অটুট রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলা এই হাটে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে বছরের পর বছর। এবিষয়ে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত জামান আজিজ বলেন, “কুর্শায় কোনো তালিকাভুক্ত পশুর হাট নেই। বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এখন তদন্ত করে দেখা হবে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। মসজিদের নামে অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান তাদের।
