হাসানুজ্জামান রাজীব \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের হররা গ্রামের ডাক্তারপাড়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মসলেম উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত বুধবার (১৭ জুন) জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজ বাগানে তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এরপর তাকে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুসারে, প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে ফুপাতো ও চাচাতো ভাইদের সঙ্গে তার জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত পরশু মাগরিবের সময় নামাজে যাওয়ার জন্য মোটরবাইক স্টার্ট করার সময় মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন জানান, “তারা সবাই তারই গোষ্ঠীর লোক। অনেকক্ষণ পিটিয়ে আধমরা অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।” মসলেম উদ্দিন পিতা-মাতার একমাত্র পুত্র ছিলেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে অনেক আগে। তাদের একমাত্র কন্যা ইশরাত। তার নাতনি শিরিনা খাতুন বলেন, “যে জায়গার জন্য দাদা প্রাণ দিলেন, সেই জায়গা যেন কেউ না পায়। এতিমখানা বা সরকারি খাতে দিয়ে দেওয়া হোক।” নাতি নিলয় দাবি করেন, “এ ঘটনার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
পারিবারিক উদ্যোগে জানাজা শেষে তাকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা নজরদারিতে রয়েছে। অভিযুক্ত ফুপাতো ও চাচাতো ভাইরা পলাতক। এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “আমরা তদন্ত করছি এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছি।”
