নিজ সংবাদ \ আগামী ২৩শে জুন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছে। গতকাল রবিবার (২১ জুন) সকালে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ একটি ঝটিকা মিছিল করে। মিছিল থেকে কয়েকজনকে আটক করার প্রতিবাদে দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগ ঝটিকা মিছিল করে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রকাশ্যে মিছিল করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিকেলে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃত্বে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে কুষ্টিয়া মডেল থানা ঘেরাও করে। এ সময় নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর অভির নেতৃত্বে অর্ধশত নেতা-কর্মী একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে শহরের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মিছিলের একটি ভিডিও পোস্ট করে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসলে তারা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকা থেকে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়। দুপুরের দিকে শহরের মজমপুর এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের গলিতে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আরেকটি ঝটিকা মিছিল করে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশার নেতৃত্বে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রকাশ্য মিছিলের প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বর থেকে ছাত্রদল ও যুবদল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক এনএস রোড প্রদক্ষিণ করে কুষ্টিয়া মডেল থানার প্রধান ফটকে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতারা তীব্র বক্তব্য দেন। কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আবদুল মাজেদ বলেন- দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী ও সহিংস কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আবদুল হাকিম মাসুদ, ইবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান সুমন, সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল বাদশা, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াকার পারভেজ, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামির হোসেন এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সজিব হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। নেতারা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে। তাঁরা প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আগামী সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার আলটিমেটাম দেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, “মিছিলে জড়িত থাকায় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সুরুজ ও ছাত্রলীগ কর্মী রাকিবকে আটক করা হয়েছে এবং জড়িত সন্দেহে আরও ৪ জনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ওই ৪ জনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শহরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল ও প্রতিবাদে ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক রয়েছে।
