কুষ্টিয়ার সঙ্গীতাঙ্গনের অমর নক্ষত্র নুরে আলম ফরিদ’র চিরবিদায়

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ, আধুনিক ব্যান্ড ও পপ সঙ্গীতের অন্যতম পথিকৃৎ নুরে আলম ফরিদ আর নেই। গতকাল বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। এক সপ্তাহ আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। রাত ১০টায় কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে নামাজের জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযা ও দাফন অনুষ্ঠানে তাঁর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্খি ও সঙ্গীতাঙ্গনের সাথিরা উপস্থিত ছিলেন। নুরে আলম ফরিদ কুষ্টিয়ার সঙ্গীত জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় প্রথম ব্যান্ড ‘শিঞ্জন’ গঠন করেন তিনি। তার নেতৃত্বে ব্যান্ডটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। স্থানীয় সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলায় ঢাকা থেকে ডাক পান তিনি। এটিএন বাংলায় সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়া বিটিভিতেও দীর্ঘদিন সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হন। এটিএন বাংলায় কর্মরত অবস্থায় মস্তিষ্কে স্ট্রোক হয়। এতে তিনি প্যারালাইজড হয়ে পড়েন এবং কি-বোর্ড বাজানোর মতো প্রিয় কাজ থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হন। কুষ্টিয়ায় ফিরে আসার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও মানসিকভাবে তিনি অবসন্ন হয়ে পড়েন। ফলে আর সৃজনশীল কাজে ফিরতে পারেননি। তার বড় ভাই ওমর ফারুক জানান, “স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় প্রথম ক্লাব গঠন করে তিনি সংগীতের যাত্রা শুরু করেন। ঢাকায় গিয়ে এটিএন বাংলায় কাজ করার সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তারপর থেকে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।” মিউজিক এসোসিয়েশন কুষ্টিয়ার সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, “নুরে আলম ফরিদকে সবাই আহমেদ ফরিদ নামে চিনতেন। ১৯৮৫ সাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করেছি। তার মতো গুণসম্পন্ন গীতিকার-সুরকার খুব কমই দেখা যায়। তার ব্যান্ড শিঞ্জনের ‘আকাশ মাটির দেশ’ গানটি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান পেয়েছে। তাকে হারিয়ে কুষ্টিয়ার সঙ্গীতাঙ্গন এক অমূল্য সম্পদ হারালো।” নুরে আলম ফরিদের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সঙ্গীতাঙ্গন শোকে মুহ্যমান। তার অসামান্য অবদান আগামী প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।