নিজ সংবাদ \ পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচার বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতি অ্যাডভোকেট পিএম সিরাজুল ইসলামের (সিরাজ প্রামাণিক) সদস্যপদ ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে। সমিতির অভিযোগ, আদালতে আচরণ, বিচারকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি আইনজীবীদের নৈতিকতা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি বিচারাধীন মামলাকে কেন্দ্র করে। সমিতির দাবি, আদালতের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকলেও সিরাজুল ইসলাম নিজস্ব পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারকের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন। এছাড়া ইসকন সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করে ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম শাতিল মাহমুদ বলেন, “আইনজীবী হিসেবে বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু সেটি নির্দিষ্ট ফোরামে জানাতে হবে। পাবলিক প্লেসে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারকের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা যায় না। তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ করেছেন। উনি নিজের ভুল স্বীকারও করেননি।” সমিতির নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আদালতের প্রতি দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নোটিশের অনুলিপি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। শাতিল মাহমুদ আরও জানান, ঘটনার পর ৮ জুলাই এক জরুরি মিটিং আহ্বান করা হয়। সেখানে নির্বাহী কমিটির ১৭ জন সদস্য, জিপি, পিপি, সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশিত সংবাদের কপি দেখে সবাই উদ্বিগ্ন ও ব্যথিত হন। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে তাঁকে ৩ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৯ তারিখে নোটিশ দেওয়া হলে ১২ তারিখে তিনি জবাব দেন। কিন্তু জবাবে তিনি সমিতিকেই প্রশ্ন করেছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নৈতিকতা নির্দেশনা অনুসারে, আইনজীবীরা এমন কোনো আচরণ করতে পারবেন না যা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে বা আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। আইনজীবীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দায়ের করার বিধান রয়েছে। সমিতি চাইলে জেলা জজ বা সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ পাঠাতে পারত। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম সেই পথ অনুসরণ করেননি। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার আইন অঙ্গনে আলোচনা চলছে। একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব, আদালতের প্রতি সম্মান এবং ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্ত আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি সাক্ষাৎকার দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে তাঁর সব ধরনের সুবিধা ৯০ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। এ ঘটনা আইনজীবীদের মধ্যে পেশাগত নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে আরও তুলে ধরেছে।
