কুমারখালীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন সুজন সাহার পরিবার

ফলো-আপ:

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অভিনব কায়দায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ হারিয়েছেন মুদি ব্যবসায়ী সুজন কুমার সাহা। গত ৫ জুন শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় পরিবারটি এখন নিঃস্ব ও আতঙ্কিত। ঘটনার পর থেকেই অসহায়ের মতো জীবনযাপন করছে পরিবারটি। সুজন কুমারখালী উপজেলার খলিশাদাহ গ্রামের বাসিন্দা। ওই রাতে বোরকা পরিহিত এক নারীসহ তিনজন তার বাড়িতে আসেন। তারা সুজনের স্ত্রী তমা রানীর কাছে ৩০০ টাকার বকেয়া পরিশোধের কথা বলে ভাঁজ করা ৫০০ টাকার একটি নোট দেন। নোটটি খুলতেই তমা রানী ও তার শাশুড়ি শ্যামলী রানী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে চোরেরা ঘরের জানালা বন্ধ করে নগদ ৩ লাখ টাকা, ১৭ ভরি স্বর্ণের গহনা ও চাচাতো বোনের বিয়ের গয়নাসহ সবকিছু নিয়ে পালিয়ে যায়। সুজনের স্ত্রী তমা রানী বলেন, “নোট ভাঁজ খুলতেই অজ্ঞান হয়ে যাই। আর কিছু মনে নেই।” শ্যামলী রানী (৫৫) জানান, “এত বছর বয়সে এমন ঘটনা কখনো দেখিনি। নাকফুল পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে।” সুজন কুমার সাহা বলেন, “একদম পথের ভিখারি বানিয়ে দিয়েছে। ব্যবসা-পরিবার নিয়ে এখন চরম হতাশায় আছি।” ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরা জান ও মালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। কুমারখালী থানার ওসি মোঃ জামাল উদ্দিন জানান, “নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে এই ডাকাতি হয়েছে। মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত চলছে, দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।” এমন ভয়ংকর ঘটনা কুষ্টিয়ার কুমারখালীসহ আশেপাশের এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।