কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের প্রাচীরের ভিতরে নতুন করে ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘিরে প্রায় ৪৬ শতাংশ জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে বেআইনীভাবে সরকারি জমি দখল করে নেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রভাবশালী সুজা উদ্দিন ইউনিয়নের ভাঁড়রা গ্রামের মৃত হারেজ উদ্দিনের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, ১৯৮৩ সালের দিকে ভাঁড়রা এলাকায় চাপড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন সরকার। স্থানীয়রা কয়েকজন ৪ নম্বর খতিয়ানে ১০৭১ দাগে ৩৪ শতাংশ এবং মৃত হারেজ উদ্দিন ১০৭২ দাগে ৪৬ শতাংশ জমি দান করলে সেখানে সরকারিভাবে পাকা প্রাচীরসহ দুইটি ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এতবছর পরে মৃত হারেজ উদ্দিন ছেলে সুজা উদ্দিন ৪৬ শতাংশ জমি নিজের দাবি করেন এবং গেল কয়েকবছর ধরে তা দখল করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ প্রদান করে আসছেন। লিখিত অভিযোগটির তদন্ত চলছে। এরইমধ্যে সরকারি ছুটি থাকায় শুক্রবার ও শনিবার অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে তড়িঘড়ি করে কেন্দ্রটির মাঝ দিয়ে ইটের দেওয়াল তুলেছেন। গতকাল রবিবার (১৪ জুন) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লাহিনীপাড়া- সান্দিয়ারা জিকে ক্যানাল ঘেঁসে চাপড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির অবস্থান। সাদা ধূসর রঙের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা কেন্দ্রটির ভিতরে দুইটি ভবন রয়েছে। একটি পরিত্যাক্ত। অন্যটিতে চলে নামমাত্র স্বাস্থ্যসেবা। পরিত্যাক্ত ভবনটির সামনে দিয়ে নতুন ইটের দেওয়াল তোলা হয়েছে। পড়ে আছে ইট ও প্লাস্টিকের পাইপ।
এ সময় ভাঁড়রা গ্রামের জহর উদ্দিনের ছেলে মো. রব্বেল শেখ (৬৩) আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি আশির দশক থেকে ১৭ বছর বিনা বেতনে হাসপাতালটিতে কাজ করেছি। তখন শুনেছিলাম হারেজ উদ্দিনের হাসপাতালে জমি দান করেছে। সরকারও প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেছেন। এখন এতোবছর পর সুজা উদ্দিন নিজের দাবি করে ঘিরে নিয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’ তাঁর ভাষ্য, হাসপাতালের জমি হাসপাতালে ফেরত দেওয়া হোক। চাপড়া গ্রামের সত্তোর্ধ ফজলুর রহমান বলেন, ৩০- ৩৫ বছর আগে সরকারিভাবে প্রাচীর দেওয়া হয়। তখন স্থানীয় মাতব্বর, চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিল। সেসময় কোনো বাঁধা হয়নি। এখন এরা কিভাবে জমির দাবি করতেছে তা জানিনা। দুদিন ধরে দেখতেছি ইট দিয়ে ঘেরা দিচ্ছি। এখন সরকারই ভালো বলতে পারবে জমির মালিক কে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রভাব খাটিয়ে সুজা উদ্দিন হাসপাতালের জমি দখল করে নিচ্ছে। প্রশাসন এর সুষ্ঠু বিচার করুক। চাপড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সুজা উদ্দিন জমির দাবি করে আসছেন। প্রায়ই দখল নেওয়ার চেষ্টা করতেন। এরমধ্যে প্রশাসনের কাছে তিনি ( সুজা) লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত চলছে। শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় ইটের দেওয়াল তুলেছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে সুজা উদ্দিন বলেন, ‘আমার রেকর্ডকৃত সম্পত্তি। আশির দশকে এখানে বড় ভবন হওয়ার কথা ছিল। সেসময় গ্রামবাসী বলেছিল বড় ভবন হলেও তখন সরকারিভাবে জমির দাম দেওয়া হবে। এরপর আর ভবনও হয়নি, কেউ টাকাও দেয়নি। সরকারের লোকের কাছে বহুবার ঘুরাঘুরি করেছি। তারা সমাধান না করে শুধু ঘুরায়। সেজন্য নিজেই ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘিরে নিয়েছি।’ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক শামীমা আক্তার বলেন, হাসপাতালের মোট জমির পরিমাণ জানা নেই। একজন হাসপাতালের ভিতরে নিজের জমি দাবি করলে এসিল্যান্ডকে বিষয়টি দেখভালের জন্য বলা হয়েছে। সেখানে তদন্ত চলছে। তদন্তাধীন জমিতে ইটের দেওয়াল দেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, খবর পেয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তদন্ত সাপক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
