নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক যেন আর সড়ক নেই। খানাখন্দ আর জমে থাকা পানিতে ছোট ছোট পুকুরের রূপ নিয়েছে গ্রামীণ সড়ক। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। কুমারখালী শহর থেকে পান্টি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক মাত্র চার বছর আগে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহনের চাপে পুরো সড়কটি এখন ভেঙে পড়েছে। বর্ষায় পানি জমে সড়কের বিভিন্ন অংশ একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষক ও সাংবাদিক মাহমুদ শরীফ বলেন, “পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া কষ্টকর। গাড়ি ব্রেক করলে পানি ছিটকে মেয়েদের কাপড়ে কাদা লেগে যায়। কাদামাখা পোশাক নিয়েই তাদের ক্লাস করতে হয়। সড়ক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।” ভ্যানচালক আনোয়ার হোসেন জানান, “গত পরশু নতুন টিউব লাগিয়েছি, আজ আবার লিক সারাতে হলো। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিনই গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে।” স্থানীয় শিক্ষার্থী অহনা খাতুন বলে, “স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। রাস্তায় কাদা আর গর্তে চলাফেরা করা দুঃসাধ্য।” স্থানীয়দের অভিযোগ, যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ এই সড়ক। প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ মানুষ এখান দিয়ে চলাচল করে। ভ্যানচালক সাইফুল জানান, “২০ মিনিটের রাস্তা এখন ৪৫ মিনিট লাগে।” পথচারী রবিউল ও ভ্যানচালক মনিরুল বলেন, সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ওজনের বালুবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ১০ টন ধারণক্ষমতার সড়কে প্রতিনিয়ত ২৫-৩০ টন ওজনের ট্রাক চলায় দ্রুত নষ্ট হচ্ছে সড়ক এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, “একেকটি ট্রাকের ওজন ৪০-৪৫ টন। এগুলো প্রতিরোধের প্রশাসনিক ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরি।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, “লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা সাধ্যমতো ব্যবস্থা নেব।” স্থানীয়রা অবৈধ ভারী যানবাহন বন্ধ ও দ্রুত সড়ক সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
