নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা গতকাল রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সিকদার মো: হাসান ইমাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা: শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, জেল সুপার শরিফুল আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) আব্দুল হাই সিদ্দিকী প্রমূখ। এছাড়া বিজিবি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, ছয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিনিধি, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগন উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এদিকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জেলার দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা সহ বিভিন্ন পরিস্থিতির উপরে বিস্তার আলোচনা করেন। জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষ এখন সচেতন, কিভাবে চলতে হয় সেটা তারা জানে। তবে জেলায় সংঘটিত অপরাধ সমূহ নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকা উচিৎ। যে বাচ্চাটা পৃথিবীর আলোর মুখ চোখে দেখলো সে যাতে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। মাতৃত্বকালীন সময়ে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে যেনো তারা সাপোর্ট পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা সম্পদের হিসাবও করি। আমাদের যাই আছে সেটা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা দরকার। বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকার সেই ধারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রশাসনকে বিগত সরকারের ধ্যান ধারনা থেকে বেরিয়ে আসার আহব্বান জানান তিনি। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, একটি মহল জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মাজেদকে নিয়ে চক্রান্ত করা হচ্ছে। যা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। জনগণের ভালো মন্দ নিয়ে আমাদের পথ চলা। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বিল দখল বিষয়ে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিলো তার কোন সত্যতা নেই। তিনি বলেন একজন সাংবাদিক জাতির বিবেক। সাংবাদিকদের লেখনিতে সমাজের ভালো খারাপ প্রকাশ পাবে। তবে কাউকে হয়রানি করতে সংবাদ প্রচার করা উচিৎ নয়। সঠিক বিষয় তুলে ধরার আহব্বান জানান করেন। তিনি আরো বলেন, বিলের ইজারা সরকারি নিয়ম মেনেই হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার জাকির সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হলেও এর অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবে কার্যকর হতে দেখা যায় না। সভায় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়, সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, কিন্তু পরবর্তী মাসে দেখা যায় সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়নের অগ্রগতি নেই। তিনি আরো বলেন, জনগণ আশা করে এই সভার মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবায়নের অভাবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত মাসিক মিটিং হচ্ছে এর সুফল জনগণ পাচ্ছে না। এর কার্যকারিতা না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কর বাস্তবায়ন হয়নি। এই মাসিক সভাকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে এর সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। তবেই এই সভার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে এবং জনগণ এর সুফল পাবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপসচিব আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, “কুষ্টিয়াকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। এদিকে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের জবাবে প্রশাসনের কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “ জেলায় অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”সভায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি করা হবে বলে জানান তিনি। সভা শেষে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের সভাপতি অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তি ও “জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি টেকসই রাখা সম্ভব নয়। সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তাহলে কুষ্টিয়াকে একটি সুশৃঙ্খল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
