ইসলামী ব্যাংকে যদি ইনটারেস্ট নাই থাকে তাহলে কেন এতো জ্বালা উঠে যায়

কুমারখালীতে জুলাই সনদের উপর বিএনপির জনসচেতনতামূলক সভায় জাকারিয়া আনছার

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জুলাই সনদের উপর বিএনপির জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে সভার আয়োজন করে বাগুলাট ইউনিয়ন বিএনপি ও সকল অঙ্গসংগঠন। অন্ষ্ঠুানে প্রধান অতিথির বক্তব্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক। বাগুলাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান হিরোনের সঞ্চালনায় অন্ষ্ঠুানে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কুমারখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাকছেদুল মোমিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল উদ্দিন বাবু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাকারিয়া আনছার মিলন প্রমূখ। এ সময় উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের কয়েক শত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে নেতাকর্মীদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাকারিয়া আনছার মিলন বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, “আপনারা একদিকে সংসদে বসে ঐক্যের কথা বলেন, আবার অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে উস্কানি ছড়ান। এই ‘ডবল স্ট্যান্ডার্ড’ রাজনীতি পরিহার করুন। বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই।” ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “সংসদে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে এমন আচরণ করেন যেন তারা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তাদের এত আগ্রহ কেন ব্যাংক থেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের হিসাব আমাদের কাছে আছে।” তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০৪২ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে ৬৯৪৮ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৩৬ কোটি টাকাসহ মোট ১০ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা আর-ডিসি প্রকল্পের নামে রাজনৈতিক বিবেচনায় উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কারা ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, তা জনগণের কাছে পরিষ্কার। ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে জাকারিয়া আনছার মিলন বলেন, ‘নির্বাচনের আগেও আমাকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু সত্যের জয় হয়েছে। যারা বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি—রাজনীতি করি জনগণের জন্য, দলের আদেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। দলের গঠনতন্ত্র মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি আজ অত্যন্ত সুসংগঠিত। ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি, তাই দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে মাঠ পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই।’