নিজ সংবাদ \ আজ ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে দমন-পীড়ন চালায়। ফলে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। প্রায় ১৪শ’ ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে এ অর্জন সম্ভব হয়। ১৪ জুলাই শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের পর সরকার দমনমূলক কর্মকান্ডের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৫ জুলাই সকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের স্লোগানের জবাব দিতে ছাত্রলীগই যথেষ্ট। ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও একই সুরে শাসানি দেন। ওইদিন দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করে এবং শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়। একইসময়ে ছাত্রলীগ রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশ ডাকে। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে হলপাড়ার দিকে যায়। বিকেল ৩টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়েন। উপর থেকে ইট-বোতল নিক্ষেপ করা হয়। শুরু হয় সংঘর্ষ। আশপাশের হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা যোগ দেয়। মলচত্বরেও দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। শিক্ষার্থীরা পিছু হটলে ছাত্রলীগ ও বহিরাগতরা লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালায়। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয় নারী শিক্ষার্থীদের ওপর। বাসের দ্বিতীয় তলায় আশ্রয় নেওয়া ছাত্রীদের নামিয়ে পেটানো হয়। ক্যাম্পাসে রক্ত, জুতা, লাঠি, ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের হিসাব অনুযায়ী, সেদিন প্রায় ২৯৭ জন আহত হন, যাদের অধিকাংশের মাথায় আঘাত ছিল। হাসপাতালেও আহতদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। সন্ধ্যায় ২০-২৫ জন ছাত্রলীগকর্মী জরুরি বিভাগে ঢুকে হামলা করে। শহীদুল্লাহ হলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। রাতে বিভিন্ন হলে (স্যার এএফ রহমান, বিজয় একাত্তর, মাস্টারদা সূর্যসেন, জহুরুল হক) শিক্ষার্থীদের মোবাইল তল্লাশি ও মারধর চলে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় হামলায় ১৫ জন আহত হন। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোরসহ বিভিন্ন জায়গায়ও ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১২৮ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে এবং পরে ছাত্রলীগের অনেকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়। সত্যানুসন্ধান কমিটি এ হামলাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে অভিহিত করে। জুলাই শহীদ দিবসে শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে দেশবাসী নতুন বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রত্যয় নিচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের স্মরণে গতকাল বুধবার মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ বাণী দিয়েছেন। তাঁরা শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান, পরিবারের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই দিবসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
