মহিমান্বিত অনন্য মারিফাত মন্ডিত রওশন দিন “সোমবার”

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

\ নাজীর আহ্মদ জীবন \

রাসূল (সাঃ) কে দ্বীণ ইসলামের মধ্যে থেকে দ্বীনে ইব্রাহীমী বা হানিফি ধর্মমত প্রচার করতে বলেন আল¬াহ। তাই, কিব্লা ও পরিবর্তন হয়ে—মস্জিদুল হারাম হলো—সাথে সাথে মেনে নিতে বলা হলো— শুক্রবার কে— সাপ্তাহিক পবিত্র দিন হিসেবে। ঈসা ও মুসা (আঃ) দের বলা হয়েছিল এ দিনকে  গ্রহণ করতে উনারা ওজর দেখিয়ে শনিবার ও রবিবার গ্রহণ করলেন।

সপ্তাহে সোম ও শুক্রবার উভয় রাতেই বান্দাদের আমল নামা আল¬াহ্র দরবারে পেশ হয় এবং সোবহ্ সাদেকে দিন ও রাত্রির ফেরেস্তারা উভয়ই একত্রিত হয়। জেনে রাখুন, এই সোমবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্যেতার জন্যই হুজুর (সাঃ) এর জন্ম, মৃত্যু, নবুয়ত প্রাপ্তী, হিজরত, মদীনায় প্রবেশ, মি’রাজ, মক্কা বিজয়, দুনিয়ার স্থলভাগ সৃষ্টি; আর তা ফুলে—ফল—পাখি আর সবুজে ভরপুর। এছাড়াও আরও অনেক বড় বড় বিষয় সোমবারে ঘটেছে। (দ্রঃ দালাহুল—কব্রাঃ পৃষ্টা ৯৬; মাওয়া ফিদ্ দুনিয়া—২০ পৃষ্টা; খাছা-য়েসুল-কব্রা ২৭০ পৃষ্টা, হেশাম—১৪৮ পৃষ্টা)।

মাওলানা আবুল কালাম আযাদ তার বিখ্যাত বইঃ রাসূলে রহ্মত (সাঃ) এ সোমবারের বৈশিষ্ট্য বলতে গিয়ে লিখেছেন ঃ “রাসূলুল¬াহ (সাঃ) এর জীবন কথায় সোমবারের যে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তা এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে প্রাণিধান যোগ্য। তিনি (সাঃ) এই সোমবারেই দুনিয়াতে আর্বিভূত হয়েছেন; সোমবারেই নুবুওয়াত লাভ করেছেন; সোমবারেই ছাওর গুহা থেকে বের হয়ে মদীনা অভিমুখে রওনা হয়েছেন; সোমবারেই কুবা’পল¬ীতে পৌছেছেন এবং সোমবারেই দুনিয়া থেকে শেষ বিদায় নিয়েছেন।”

হযরত আবদুল¬াহ্ ইব্নে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে; “প্রিয়—নবী (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেছেন “সোমবারে”; নবুয়াত পেয়েছেন “সোমবারে”; মক্কা থেকে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন “সোমবারে”, মদীনায় পৌছেন “সোমবারে; মক্কা বিজয় হয় “সোমবারে”; সূরা ঃ মায়েদা নাযিল হয় “সোমবারে”; ইন্তেকাল “ সোমবারে”। তাই এ পবিত্র সোমবার আমাদের জন্য রহমত, বরকত ও মাহিমান্বিত দিন। এ দিনে বান্দার আমল আকাশে তুলে নেয়া হয়, ইত্যাদি।”

হযরত আবু কাতাদা আল—আনসারী (রাঃ) বলেন ঃ রাসূল (সাঃ) সোমবার দিন রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে বলেন ঃ এই দিনে (সোমবারে) আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই  দিনেই আমি নবুয়ত পেয়েছি। (দ্রঃ ইমাম আহ্মদ (রঃ) তার মুস্নাদে সহীহ্ সনদ সহ বর্ণনা করেছেন)।

হযরত বিলাল (রাঃ) কে বলেছিলেন ঃ “হে বিলাল ! তুমি কখনও সোমবার দিন রোযা রাখা হতে বিরত থাকিও না। কেননা, আমার পয়দায়েশ হয়েছে সোমবারে; আমি নবুয়ত পেয়েছি সোমবারে; হিজরত করেছি সোমবারে এবং সোমবারেই আমার ওফাত হবে। সুতরাং সোমবার দিন রোযা রাখাকে তুমি অপরিহার্য করে নাও।”

রাসূল (সাঃ) এর পবিত্র মা’রিফাত জীবনে সব সোমবার—এ; পবিত্র শুক্রবারের সাথে সম্পর্ক শরীয়তের। তাই তো—দিন—রাত চাইলো তাদের মাঝে—প্রভু পাঠালেন—“সুব্হে—সাদিক’—এ।

আসেন আমরা এ মহান বন্ধু আমাদের নবী শাফায়েত কারি; যার কলেমা পড়ে ঈমান এনেছি তার তরে বেশি বেশি করে পড়িঃ দরুদ ও সালাম। ভাল বাসি এ মহান দরদী  বন্ধুটিকে। আমীন—সূম্মা আমীন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত হিসাব কর্মকর্তা (বি.টি.এম.সি), কুষ্টিয়া।