নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার কুমার নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদীর জীববৈচিত্র?্য রক্ষা, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। করবো কাজ গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নদী রক্ষণাবেক্ষণ, মৎস সম্পদ উন্নয়নে গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে কুমার নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত কার্যক্রম ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুমার নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করণের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন। এসময় ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা বাংলাদেশকে যে ভাবে এগিয়ে নেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন আমরা তারই কর্মসূচির অংশ নিয়েছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ভিত্তিক এই বাংলাদেশকে উন্নয়নের জন্য সমৃদ্ধির জন্য, উনি কৃষি এবং কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নকে সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। আমাদের দেশে বাৎসরিক ৪ পয়েন্ট মিলিয়ন মাছের উৎপাদন হয়। আমাদের দেশ ছোট, পৃথিবীতে আমাদের দেশের থেকে অনেক বড় বড় দেশ আছে। কিন্তু মাছের উৎপাদনে বাংলাদেশ পৃথিবীর ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে খালের প্রডাকশন বেড়েছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় তারই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এখানে মাছের পোনা অবমুক্ত করন করা হচ্ছে। নদী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকলে মাছ হতে পারে না। ইতিমধ্যে নদীর আগাছা পানা পরিস্কার করা হয়েছে। নদী রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, নদী ও জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়াতে শুধু পোনা অবমুক্ত করলেই হবে না; মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ জাল ব্যবহার, ছোট মাছ ও পোনা নিধন, প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকার এবং নদী দূষণ বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। এছাড়া আলমগীর হোসেন বলেন, নদ-নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র সংরক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ শিকার, কারেন্ট জাল ব্যবহার এবং মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য বন্ধ করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে নদীতে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পোনা অবমুক্তকরণ শেষে নদীর পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
