এই জলাধারে আমরা পানি ধরে রাখবো: সোহরাব উদ্দিন

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ঘোষণায় কুষ্টিয়ায় আনন্দ র‌্যালি

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

 

নিজ সংবাদ \ পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়ার স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার বিকেলে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে আনন্দ র‌্যালি বের হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণকারী এ র‌্যালিতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত গড়াই নদীর তীরে সৈয়দ মাসুদ রুমী কলেজ সম্মূখে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন কমিটি কুষ্টিয়ার আহবায়ক, পরিষদের প্রশাসক  সোহরাব উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা পদ্মা ব্যারেজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে স্লোগান দেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, “ভারত প্রতিবছর অন্যায়ভাবে তাদের দেশে বাঁধ দিয়ে গঙ্গা ও পদ্মার পানি আটকে রাখে। এতে করে কুষ্টিয়া, পাবনাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার কৃষি ও পরিবেশ ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পানি ছাড়া কোনো জীবজন্তুই বাঁচতে পারে না।

এই ব্যারেজ নির্মাণের ফলে যে জলাধার সৃষ্টি হবে সেখানে আমরা পানি সংরক্ষণ করবো। এরপর আমরা বিভিন্ন সময়ে গড়াই নদী ও জিকে ক্যানেলসহ অন্যান্য জায়গায় পানি সরবরাহ করবো।” বক্তারা জানান, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, সেচ, নদী ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পানি সংকট নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কুষ্টিয়া শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে মাওলানা ভাসানী ও জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্ত ১২ থেকে ১৫টি জেলাকে উপকৃত করবে। তিনি বলেন, অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ টি নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ব্যারেজ কৃষকদের সেই ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। কুষ্টিয়া সদর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম-উল হাসান অপু বলেন, ফারাক্কার অভিশাপে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের দুঃসাহসী পদক্ষেপ অতীতের কোনো সরকার দেখাতে পারেনি। জিয়াউর রহমানের জলাধার নির্মাণের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হলে এ অঞ্চলের পানি সংকট কমবে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, জেলা ছাত্র দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জব্বার মিলন, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহ নেওয়াজ সুমন, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।