নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যাচ্ছে, যা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ড্রেনগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্জুন দাস আগরওয়ালা রোড, উপজেলা পরিষদের সামনের সড়ক, ১২ শরীফ দরবার সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পথচারীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। পথচারী সোহেল আহমেদ জানান, “ড্রেনের পানি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রাস্তায় বের হওয়াই দায় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর বাড়িতেও সেই দুর্গন্ধ ঢুকে পড়ে।”

নাগরিকদের অভিযোগ, রাস্তার ধারের ড্রেনে আবর্জনা জমে থাকে। অনেক বাড়ি থেকে সরাসরি ময়লা ফেলা হয় ড্রেনে। কোথাও ডাস্টবিনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় বর্জ্য সহজেই জমে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। এনএস রোডে কয়েক বছর আগে বিপুল ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও মাঝারি বৃষ্টিতেই বড় বাজার ও গার্লস হাইস্কুল এলাকা তলিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজা বেগম বলেন, “আগে পৌরসভার আওতায় না থাকায় ভালো ছিলাম। এখন বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর ডুবে যায়।” নাজনীন নাহার জানান, “বৃষ্টির পানি আর নোংরা আবর্জনা মিশে বিশ্রী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সন্তানদের স্কুলে পাঠানোতেও সমস্যা হচ্ছে।” এ অবস্থায় পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডজুড়ে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন নগরবাসীরা। তবে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাইফুল্লাহ বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছি। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। লেবাররা প্রতিদিন কাজ করছেন। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও নাগরিক সেবায় আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। শহরের তিনটি সমস্যাপূর্ণ স্থানে সংস্কার প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব।” নাগরিকদের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে জলাবদ্ধতার এই দুর্ভোগ দূর করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
