নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার বটতৈল মৌজার টাকিমারায় প্রায় ৯ দশমিক ৫৩ একর জমির মালিকানা নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ৬০ বছরের বেশি সময় ভোগদখল, দলিল ও বিজ্ঞ আদালতের প্রকাশ্য নিলাম খরিদকৃত আরএস রেকর্ডে মলিকানায় জমির দাবি একদিকে, অপরদিকে সাবেক খতিয়ানের ভিত্তিতে ওয়ারিশানার দাবি দুই পক্ষের বিরোধে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
জমির বর্তমান আরএস রেকর্ডে জমির মালিক মরহুম খলিলুর রহমানের ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে আসাদুর রহমান খলিল জানান, তার পিতা মরহুম খলিলুর রহমান বিভিন্ন সময়ে খোশ কবলা দলিল এবং সরকারি নিলামের মাধ্যমে উক্ত জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। তিনি দাবি করেন- ১৯৫৯, ১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে ধারাবাহিকভাবে জমি ক্রয়ের ক্রয় করেন এবং ১৯৬২ সালে বিজ্ঞ আদালতের প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে খলিলুর রহমান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে আরও জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তাদের পরিবার ওই জমিতে কৃষিকাজ করে আসছে।
তিনি আরও জানান, ২০১২ সালে জমি সংক্রান্ত একটি সামবন্টন মামলা (নং-৫১৪/২০১২) কুষ্টিয়া সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়ের হয়, যা এখনো চলমান। সর্বশেষ গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে মৃত রবিউল হাসানের ওয়ারিশরা নতুন করে আরেকটি সামবন্টন মামলা (নং-৩৯/২০২৬) দায়ের করেন, যা আদালত গ্রহণ করে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালত পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছে। তার আগেই মামলা দাখিল করার গত ২০ জুন লোকজন জড়ো করে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই রবিউল হাসানের ওয়ারিশ দাবীদাররা জমির সীমানা নষ্ট করা এবং জোর করে জমি দখলের পাঁয়তারা করে।
অন্যদিকে অভিযোগকারীর পক্ষ দাবি করছে, জমিটি তাদের পূর্বপুরুষ দেরাজতুল্লা প্রামাণিকের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকায় তারা বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে মালিকানা দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, খলিলুর রহমান অতীতে ভুল বুঝিয়ে সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তারা এসএ পর্চায় দেরাজতুল্লা প্রামাণিকের নাম থাকার কথা উল্লেখ করেন।
এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তাদের জানা মতে দীর্ঘদিন ধরে খলিলুর রহমানের পরিবারই জমিটির মালিক এবং তাদেরই দখলে রয়েছে। তবে হঠাৎ করে নতুন করে ওয়ারিশানার দাবি উঠায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যার কাছে বৈধ কাগজপত্র আছে, আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন দোলন জানান, আদালতে দায়ের করা নতুন মামলার মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন। তার দাবি, নিলামের মাধ্যমে খলিলুর রহমানের ক্রয়কৃত সম্পত্তির আইনগত ভিত্তি নেই।
অপরদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন বলেন, একই জমি নিয়ে একাধিক সামবন্টন মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া মামলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই জমি দখলের পায়তারা আইনসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলিল, বিজ্ঞ আদালতের প্রকাশ্য নিলাম ও দীর্ঘদিনের ভোগদখল বনাম সাবেক খতিয়ানের ভিত্তিতে মালিকানার দাবি—এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত সমাধান এখন আদালতের সিদ্ধান্ত ও রায়ের ওপর নির্ভর করছে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীও চান, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি হোক এবং কোনো ধরনের অশান্তি না ছড়ায়।
