হাসানুজ্জামান রাজিব \ দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৪নং বটতৈল ইউনিয়নের খাজানগর। চাল ব্যবসার জন্য বিখ্যাত এই এলাকাটি এখন সড়কের বেহাল দশার কারণে ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ছোট যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ব্যবসায়ী, চালক, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। হাড়ভাঙা রাস্তায় চলতে গিয়ে অনেকে আহত হচ্ছেন। অসুস্থ রোগীদের জন্য এই সড়ক আরও বিপজ্জনক। সামি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এফ এম এনামুল হক বলেন, “খাজানগর দেশের সর্ববৃহৎ চালের মোকাম হওয়া সত্ত্বেও রাস্তা খানাখন্দে পরিপূর্ণ। এটা খুবই দুঃখজনক। সরকারের উচিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার করা। তবে তার আগে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। ড্রেনেজ ঠিক না হলে যত মজবুত রাস্তাই তৈরি হোক, তা বেশিদিন টিকবে না।” প্রগতি এগ্রো ফুডের প্রোপ্রাইটর সোহেল আহমেদ জানান, “রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে বাইরের গাড়ি ধান পরিবহনে আসতে চায় না। যারা আসে, তাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। ছোট যানবাহনগুলো প্রায়ই রাস্তার ধারে বিকল হয়ে পড়ে থাকে।” ইজিবাইক চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারি না। যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। বৃষ্টির সময় তো রাস্তা একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলছে, কেউ দেখছে না।” স্থানীয় ব্যবসায়ী লালচাঁদ বলেন, “সড়ক সংস্কারের আগে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ জরুরি। মিলাররা তাদের ভবন উঁচু করে দেয়ায় সড়কে পানি জমে। ফলে দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা।” সনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব আলাল ব্যাপারী জানান, “রাস্তাটি দীর্ঘদিন বেহাল। গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বৃষ্টিতে পানি জমে তীব্র যানজট হয়। যাতায়াতে চরম অসুবিধা।” বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আনিসুর রহমান বলেন, “দেশের সর্ববৃহৎ চাল মোকাম হলেও কোনো সরকারই এই সড়কের দিকে নজর দেয়নি। ২০২৩ সালে একবার সংস্কার হয়েছিল, কিন্তু দুর্নীতির কারণে কাজ সঠিক হয়নি।” বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী শাজাহান আলী জানান, “কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এই সড়কসহ জেলার সব রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। বটতৈল মোড় থেকে খাজানগর হয়ে পোড়াদহ পর্যন্ত রাস্তাটি অগ্রাধিকার পাবে। আমরা আশাবাদী দ্রুত সংস্কার হবে।” এদিকে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জরুল করিম বলেন, “কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা সড়কের বটতৈল মোড় থেকে বল্লভপুর পর্যন্ত সংস্কারের প্রস্তাব আমরা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করবো।” টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও এলাকাবাসী দ্রুত সমাধান চান। খাজানগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ চাল মোকামের প্রধান সড়ক যদি দ্রুত মেরামত না হয়, তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন খাজানগর তথা বটতৈল- আইলচারা এলাকার মানুষ।
