নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেছেন, জুলাইযোদ্ধারা এই দেশকে একটি নতুন পথের সন্ধান দিয়েছিল তাদের ত্যাগ ও জীবনদানের মাধ্যমে। যা জাতি চির জীবন স্মরণ রাখবে। কুষ্টিয়ায় জুলাইযোদ্ধা শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণে জেলা পরিষদের সাথে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাবে। আপনাদের যে কোন সমস্যা সমাধানে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনা সভায় একথা বলেন। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বাংলাদেশ সকলের, এই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সকল মানুষের অংশীদারিত্ব রয়েছে। সকলে মিলে মিশে কাজ করলে দেশের সব সমস্যা দূরীভূত সহজ হবে। তিনি দেশ গড়ার কাজে দলমত নির্বিশেষ সকলের ঐক্যবদ্ধতার উপর জোর দিয়ে বলেন, সকলের মেধা ও মননে দেশের ভালবাসা কাজে লাগাতে হবে। সকল দ্বন্দ্ব ও ভেদাভেদকে উন্নয়নের উর্ধে রেখে আমাদের সামনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন কর্মসুচী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শহীদ আবরার ফাহাদ ষ্টেডিয়াম চত্বরে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক তৌফিক বিন-হাসান ও পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন। এসময় বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান ও জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রোদ্ধা জানানো হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এ. কে এম আলী মহাসিন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অফিসের কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের স্মরণে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এ. কে এম আলী মহাসিন। পরে কুষ্টিয়া সুইমিংপুল অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক তৌফিক বিন-হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এ. কে এম আলী মহাসিন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর, জুলাইযোদ্ধা সুজন রহমান, তাজলুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোজাক্কের রাব্বী, উল্লাস হোসেন, শহীদ পরিবারের সদস্য সীমা খাতুন, আশরাফুল আলম, জুলাইযোদ্ধা জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি হাফেজ সেলিম রেজা প্রমুখ।
আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জুলাইযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ দুটি ধারায় ছিল একটি ধারা বিতাড়িত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে আর একটি ধারা গণমানুষের আশা আকাংখা পুরনে দেশে থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। আর এটাই বাংলাদেশ। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও সমতার ভিত্তিতে দেশ গড়তে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। কোন বিভক্তি ও দ্বীধা নয় দেশের উন্নয়নে আমরা সকলে এক হয়ে কাজ করে যাবো।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ৭১ এর সাথে ২৪-এর অনেক পার্থক্য রয়েছে। তাই বলে ২৪কে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। জুলাই ২৪ আমাদের দীর্ঘ ত্যাগ ও কষ্টের ফসল। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে ফ্যাসিষ্টমুক্ত করা হয়েছিল এই জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমাদের হিংসা বিদ্বেষসুলভ আচরণ পরিহার করতে হবে। ঐক্যগতভাবে দেশের উন্নয়নে সকলকে কাজ করতে হবে। অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সাথে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকেরা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। অনেক পুলিশ ভাইকে পেশাদারিত্বের মধ্য থেকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। আন্দোলনের সময় আমরা কঠিন একটি সময় পার করেছি আর সেই সময়ে অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি। তাই ধালাওভাবে কোন পুলিশকে ফ্যাসিষ্ট বলা যাবে না। তিনি আরো বলেন, আমাদের যুবসমাজ ফ্যাসিষ্ট আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি আরো বলেন- সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ না হলে প্রতিবেশি ভারত আমাদের ক্ষতি করবে। আর ঐক্যবদ্ধ হলে দেশমাতৃকায় কোন অপশক্তি আমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এ. কে. এম আলী মহাসিন বলেন, আমাদের চেতনা ৬৯% জনগন। গণভোটে এদেশের ৬৯% মানুষের রায়কে উপেক্ষা করে কবর দিয়ে রাখা যাবে না। আগে গণভোটের রায়কে সম্মান করে এর বাস্তবায়নে রুপ দিন অন্যথায় দ্বিতীয় বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হোন। তিনি আরো বলেন- ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আমরা ছাড় দিতে রাজি আছি আর আপনারা গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে রাজি হন। তিনি জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও আহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদানে সরকারের প্রতি আহবান জানান। জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৪৭ সালের পর থেকে আমাদের সকল অর্জন নষ্ট হয়েছে। সব সময় আমরা অতিদ্রুত বিভাজিত হয়েছি ফলে আমাদের সফলতার চেয়ে বিফলতা বেশি হয়েছে। ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি। জুলাই অর্জন কোন দল বা ব্যক্তির নয় এটা আপামর জনগনের। সরকারকে কেউ ভুল পথে পরিচালিত করতে গেলে বিএনপি কোন ভুল পথে যাবে না। দেশ গড়ার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, ৯০-এর স্বৈরশাসককে আমরা পরাভূত করেছি। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতন, খুন ও গুমের শিকার হয়েছি। হাজার হাজার নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছে ফ্যাসিষ্ট সরকারের দ্বারা। আজ আমাদের একটি প্লার্টফরমে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানুষের গণআকাংখা পুরনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছে। তাই গণভোট বাস্তবায়ন হবে জুলাই সনদের মাধ্যমে, কোন একটি দলের মর্জির উপর নয়। অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ে কর্মকর্তা, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই সদস্য ও জুলাই সদ্যরা উপস্থিত ছিলেন।
